পঞ্চতত্ত্ব এবং প্রনাম মন্ত্র

  •  পঞ্চতত্ত্ব // Panchatatva
panchatatva

আপনরা অনেকেই পঞ্চতত্ত্ব সম্পর্কে শুনেছেন। কিন্তু এই পঞ্চতত্ত্ব বিষয়টি কি তা আপনাদের জানা রয়েছে কি? আজ আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।

আলোচনার বিষয় বস্তু

১. পঞ্চতত্ত্ব কাকে বলে?

২. পঞ্চতত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা।

৩. এই পঞ্চতত্ত্বের আবির্ভাব কেন হল।

৪. এই পাঁচটি তত্ত্বের পরিচয় কি?

৫. পঞ্চতত্ত্বের প্রনাম মন্ত্র এবং এর বাংলা অর্থ।

পঞ্চতত্ত্ব কাকে বলে?

গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্মমতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রস আস্মাদনের জন‍্য এই ধরাধামে স্বয়ং পাঁচটি অবতারে আবির্ভূত হন। এই পাঁচটি অবতারকে একসঙ্গে পঞ্চতত্ত্ব বলা হয়।

পঞ্চতত্ত্বের ব‍্যাখা : 

পঞ্চতত্ত্ব হল এক বস্তু। এদের মধ্যে কোন ভেদ নেই। এনারা হলেন অদ্বৈতত্ত্ব। এই চিন্ময় জগতের সব কিছুই পরম। কোথাও কোন ভেদাভেদ নেই। শুধুমাত্র রস আস্বাদনের উদ্দেশ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারংবার এই ধরা ধামে অবতীর্ণ হন। তিনি একেকবার একেক অবতারে অবতীর্ণ হন কিন্তু সকল অবতারই কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের অবতার। অর্থাৎ প্রতিটি অবতারেরই মূল সত্ত্বা হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। 

পঞ্চতত্ত্ব এক্ বস্তু নাহি কিছু ভেদ।

রস আস্বাদিতে তবু বিবিধ বিভেদ।।

এই পঞ্চতত্ত্বের আবির্ভাব কেন হল?

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রস আস্বাদনে ভিন্ন অবতারে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।

যেমন :

 রাধা ও কৃষ্ণ এক এবং অভিন্ন কিন্তু লীলার জন‍্যই তারা আবার শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে এক হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণই রাধার ভাবযুক্ত হয়ে তিনটি স্বাদ আস্বাদনে চৈতন‍্য জন্ম নিয়েছেন। এই তিনটি স্বাদ হল : 

১. রাধার মহিমা কিরুপ তা তিনি আস্বাদন করবেন।

২. রাধার প্রেমের মাধুর্য কিরুপ তা তিনি জানবেন।

৩. কৃষ্ণ প্রেম অনুভব করে রাধার কি সুখ তাও তিনি জানবেন।

৩ / ৪. এবার তিন নম্বর ও চার নম্বর একসঙ্গে আলোচনা করব।

পঞ্চতত্ত্ব প্রনাম মন্ত্র : 

পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্।

ভক্তাবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্।।

বাংলা অর্থ : পঞ্চতত্ত্বের আত্মা শ্রীকৃষ্ণ যিনি ভক্তরুপ, ভক্তস্বরুপ,ভক্তাবতার,ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত এবং ভক্তশক্তি রুপে বিরাজমান,তাহার চরনে প্রনাম জানাই।

তাহলে মন্ত্রে আমরা ভগবানের পাঁচ রুপ বা অবতার দেখতে পাচ্ছি। সেগুলো হল ভক্তরুপ, ভক্তস্বরুপ,ভক্তাবতার,ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত এবং ভক্তশক্তি। তাহলে এক এক করে দেখেনি ভগবান কোন কোন রুপে ধরাধামে ধরা দিয়েছিলেন।

ভক্তরুপ : চৈতন্য মহাপ্রভু। এই চৈতন্য রুপ হল ভগবানের নিজের।

ভক্তস্বরুপ : নিত‍্যানন্দ প্রভু। প্রভু নিত‍্যানন্দ হলেন স্বয়ং বলরাম।

ভক্তাবতার : শ্রী অদ্বৈত আচার্য। শ্রী অদ্বৈত আচার্য হলেন বিষ্ণুর ভক্ত অবতার।

ভক্তাখ‍্যা বা শুদ্ধভক্ত : শ্রীবাস প্রভু। শ্রীবাস প্রভু হলেন নারদ মুনির অবতার।

ভক্তশক্তি : গদাধর প্রভু। গদাধর প্রভু হলেন শ্রীমতি রাধা রাণীর প্রকাশ।

গদাধর প্রভু এবং শ্রীবাস প্রভু হলেন শক্তিতত্ত্ব। এদের চরনে তুলসী পাতা অর্পন করতে হয় না আর চৈতন্য মহাপ্রভু,নিত‍্যানন্দ প্রভু এবং শ্রী অদ্বৈত আচার্য হলেন বিষ্ণুতত্ত্ব। এদের চরনে তুলসীপাতা অর্পন করবেন।

তাহলে আশাকরি আপনাদের সামনে পঞ্চতত্ত্বের রহস‍্য উন্মোচন হল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *