February 24, 2024

মানষিক অবসাদ দূর করতে হনুমান চালিশা

Hanuman Chalisa to Overcome Mental Depression /  How to Remove Mental Depression by Hanuman Chalisa


How to overcome depression, overcome mental depression by hanuman chalisa
Overcome Depression

মানষিক অবসাদ আজ আমাদের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আমরা কমবেশী প্রায় প্রত্যেকেই এই রোগের শিকার। কেউ কেউ এই অবসাদ থেকে মুক্ত হতে না পেরে আত্মহত্যার পথ পযর্ন্ত বেছে নেয়। কিন্তু আপনি জানেন কি হনুমান চালিশার মাত্র চল্লিশটি চৌপাঈ আপনার জীবনের সমস্ত অবসাদ মুছে ফেলতে পারে? মানষিক অবসাদ দূর করতে হনুমান চালিশা কিভাবে আপনার সহায়ক হয়ে উঠতে পারে সেটি এবার আলোচনা করা যাক।

প্রথমেই প্রশ্ন আসে মানষিক অবসাদ কি?

What is mental depression? এর উওরে বলা যায় মানষিক অবসাদ হল মনের এক এমন অবস্থা যেখানে মন শুধু নেতিবাচক চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। অর্থাৎ যেকোন অবস্থায় যেকোন পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তির মন নেতিবাচক চিন্তাই শুধু করে থাকে।

সাধারণ মন খারাপ আর মানষিক অবসাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমি টাকা রোজগার কম করছি বা আমাকে কেউ ভালবাসে না এটিকে মানষিক অবসাদ বলা যাবে না। এগুলো সাধারণ মন খারাপ যা ঐ ব্যক্তির সঙ্গে ভাল কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ঐ মন খারাপ চলে যাবে। আর মানষিক অবসাদ হল ঐ ব্যক্তি সব সময় সব কিছুতেই নেতিবাচক কোন কিছু খুঁজে পাবে। ভাল কিছু জীবনে ঘটলেও মনের অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না।

এবার প্রশ্ন হল মানষিক অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তির লক্ষন গুলি কি কি?

What are the Symptoms of Mental depression?

  • মন সব সময় উদাস বা অবচেতন হয়ে থাকে।
  • নিজকে সব সময় গুটিয়ে রাখার চেষ্টা। অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি নিজকে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
  • সব কিছুর ওপর উৎসাহ শেষ হয়ে যায়।
  • নিজেকে সবসময় সব কাজে অপরাধি মনে করা।
  • শারীরিক ক্লান্তি আসে।
  • কোন কাজের ওপর একাগ্রতা থাকে না বললেই চলে।
  • খিদে না পাওয়া। শরীরের ওজন কমে যায়। কখনও খিদে বেড়ে যায় ফলে শরীরের ওজনও বেড়ে যায়।
  • ঘুম না আসা। কখনও ঘুম হলেও রাতে মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙ্গে যায়। সবচেয়ে বেশি যেই লক্ষণটি ঘুমের ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটি হল খুব ভোর বেলায় ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।
  • সব সময় নিজের ক্ষতির চেষ্টা কখনও কখনও সেটা আত্মহত্যা পযর্ন্ত।


মানষিক অবসাদ কেন হয় :

Causes of Mental Depression?

মানষিক অবসাদ কেন হয় এর কারন হিসেবে মনঃস্তাত্মিক বিদদের মতে দুটো কারন রয়েছে :

  • Biological Cause 
  • Psychological Cause 
Biological Cause : এই প্রক্রিয়ায় ঐ ব্যক্তির মাথার ভেতরের এই তিনটি রাসায়নিকের অসঙ্গতি দেখা যায় যথা : Serotonin, Norepinephrine এবং Dopamine.

Psychological Cause : হঠাৎ জীবনে কিছু খারাপ ঘটনা ঘটলে মনে নেতিবাচক চিন্তার চক্র চলে। এই নেতিবাচক চিন্তা বা Negative thought এ ঐ ব্যক্তি সব ভাল কিছু বা স্বাভাবিক কোন ঘটনার মধ্যেও খারাপ কিছু ঘটবার আশঙ্কা করে।

আপনার প্রতি কিছু প্রশ্ন  :

Some Questions about Mental depression

একটি কথা বলে রাখা ভাল যে এমন নয় যে যিনি মানষিক ভাবে খুব দুর্বল তাদেরই এই রোগ হয়। মানষিক ভাবে প্রচণ্ড সবল ব্যক্তিরও এই রোগ হতে পারে। কিভাবে এই রোগের মোকাবেলা করবেন সেটা বলার আগে আপনাকে আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করি :


  • আপনার জীবন হয়ত খুব গভীর সমস্যার মধ্যে রয়েছে যা থেকে আপনি বের হয়ে আসবার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না সমস্যা আর তার সমাধান একই পয়সার দুটো দিক। যখনই সমস্যা আমাদের জীবনে আসে সঙ্গে তার সমাধান ও নিয়ে আসে। আপনার যদি বিশ্বাস না হয় আপনি আপনার নিজের জীবনের অতীতের দিকে তাকান। আপনি কত ছোট বড় সমস্যায় পড়েছেন সেখানে থেকে মুক্তও হয়েছেন। সময় সব কিছু ঠিক করে দেয়। অন্য কিছু বদলানোর আগে নিজের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান। সব কিছুরই খারাপের সঙ্গে সঙ্গে ভাল দিকও রয়েছে। আর পাঁচটা সমস্যার মত এটিও আপনার জীবন থেকে চলে যাবে এটা বিশ্বাস করুন। 
  • আপনার অবসাদগ্রস্ত হবার কারন যদি কোন প্রিয় জনের মৃত্যু বা ছেড়ে চলে যাওয়া হয় তার জন্য একটু অন্য ভাবে দেখা হোক। যদি কারন মৃত্যু হয় তাহলে বলব মৃত্যুই আমাদের জীবনে একমাত্র নিশ্চিত ঘটনা। মৃত্যু আসলে কি? গীতার কথা অনুযায়ী মৃত্যু হল আত্মার দেহ বদলান। অর্থাৎ আমরা যেমন আমাদের পোশাক বদল করি তেমনি আত্মাও তার দেহ বদল করে। আত্মার কখনও মৃত্যু হয় না। আপনার প্রিয়জন যিনি হয়ত মারা গেছেন তিনি কোথাও যাননি আছেন এই পৃথিবীতেই শুধু দেহ বদল করেছে। আর কারন যদি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার ছেড়ে যাওয়া হয় তাহলে সবার আগে নিজের দিকে তাকান। এর দুটো কারন বলা যেতে পারে। তিনি যখন আপনার সঙ্গে ছিলেন তখন কি আপনি তাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছিলেন? আপনি আগে আপনাকে ওনার জায়গায় বসিয়ে ভাবুন তারপর উওর দেবেন। যদি উওর হ্যাঁ হয় তাহলে বলব যিনি আপনাকে ছেড়ে চলে গেছেন তিনি আপনার কোন দিন ছিলই না। যা আপনার ছিল না সেটা নিয়ে কেন অহেতুক কষ্ট পাচ্ছেন।
  • আপনি হয়ত আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনায় ভয় পাচ্ছেন। ঘটনাতে হয়ত আপনার কোন ভুল রয়েছে বা নেই। আচ্ছা একটি কথা বলুনতো আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যা কিছু পাওয়া গেছে তার কোন জিনিসটি ভয় পেয়ে কেউ পেয়েছে? আর জীবনে ভুল কে করে নি? হ্যাঁ মানছি হয়ত আপনার ভয় পাবার কারণটি অন্যদের থেকে অনেক গভীর। আপনি হয়ত এটাই ভাবছেন। আপনি হয়ত জানেন না সবার কাছেই তার সমস্যা সবচেয়ে বড়।
  • আপনার অবসাদগ্রস্ত হবার কারণ যদি পরীক্ষায় ভাল ফল না করা বা চাকরি না পাওয়া এই জাতীয় কিছু হয় তাহলে নিজকে প্রশ্ন করুন আপনি আপনার পড়াশুনার বা অনুশীলনের প্রতি কতটা সৎ ছিলেন? যদি উওর হ্যাঁ হয় তাহলে সবার আগে আপনি আপনার কমজোর জায়গা গুলি খুজে বের করুন। দরকারে আপনি কোন সিনিয়র বা শিক্ষকের সাহায্য নিন। যদি উওর না হয় তাহলে বলব যারা কর্ম করে ভগবান একমাত্র তাদেরই সঙ্গে থাকে। আপনার চোখের সামনে হয়ত অনেকে অন্যায় ভাবে চাকরি পাচ্ছে। আপনি অনেক বিনিদ্র রাত কাটিয়েও আপনার হয়ত ভাগ্যে সিঁকে ছিড়ছে না। জিনিসটা যথেষ্ট বেদনা দায়ক মানছি। কিন্তু একটি কথা মনে রাখবেন জীবনটা অনেক বড়। একটি চাকরি বা পরীক্ষায় ভাল ফল হয়ত এই মুহূর্তে তাদের কাছে অনেক বড় কিছু হলেও পরবর্তীতে জীবনের মানে যে অন্য কিছু সেটা তারা পরে অনুধাবন করবেন। একটা কথা মনে রাখবেন জীবনের কোন ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় না। 
মানষিক অবসাদ থেকে মুক্ত হবার উপায় কি?

How to overcome Mental Depression 

সবার প্রথমে আপনাকে বলব মানষিক অবসাদ আর পাঁচটা রোগের মত একটি রোগ। যেমন সব রোগই এইডস্ বা কোভিড 19 হয় না ঠিক তেমনই মানষিক অবসাদ রুগীই পাগল না। তাই প্রয়োজনে কোন মনোবিদের পরামর্শ নিন অবশ্যই। উনাদের কথামত চলুন।

যতটা পারবেন পরিবারের সঙ্গে বা খুব বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে আপনার মনের কথা গুলো বলুন।মনের কষ্ট গুলো মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখবেন না। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন। বাইরের সবার কাছে কিন্তু মনের কথা বলতে যাবেন না। এতে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে।

নিজকে সব সময় কোন কাজে ব্যস্ত রাখুন। সেই কাজটা যেন আপনার মনের মত হয়। অর্থাৎ কাজটি যেন আপনার কাছে বোঝা হয়ে না দাড়ায়। অথবা আপনার যেই কাজটি করতে ভাল লাগে সেই কাজে নিজের উৎকর্ষতা বাড়াবার চেষ্টা করুন। আজকাল যেকোন গঠন মূলক কাজকেই অর্থনৈতিক রুপ প্রদান করা যায়। আপনার Passion কে এগিয়ে নিয়ে যান।

আমরা মনুষ্য জাতি এই পৃথিবীর সবচেয়ে বিকশিত প্রানী। তাই আমাদের মধ্যে এমন একটি ক্ষমতা রয়েছে যা অন্য প্রানীদের নেই। তাহল চিন্তা করার ক্ষমতা। এই চিন্তা করার ক্ষমতাই আমাদের জীবনে দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বেদনা সব নিয়ে আসে। এটি না থাকলে আমাদের জীবন এত জটিল আকার ধারণ করত না। আমরা আমাদের অতীতের কোন ঘটে যাওয়া ঘটনা বা ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন কোন ঘটনার সম্ভবনা থেকে কষ্ট পেয়ে থাকি। একবার চিন্তা করুন আমাদের এমন এক মৌলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা কষ্ট পাই যেটা সৃষ্টি কর্তা আর কাওকে দেয় নি। অর্থাৎ যেটা আমাদের সম্পত্তি হবার কথা ছিল সেটা আমাদের দায় হয়ে গেল।

এবার কোন বিপদ বা কষ্ট বা অবসাদের ফলে আমাদের দুই রকমের অভিব্যক্তি হয়। একটি ইতিবাচক আর একটি নেতিবাচক। ইতিবাচক অভিব্যক্তিতে বক্তার উক্তি হবে ” হায় ভগবান এই সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাব?” আর নেতিবাচক অভিব্যক্তিতে বক্তার বক্তব্য হবে ” হায় ভগবান আমার সঙ্গেই কেন এই রকম হল? আমারতো সব শেষ হয়ে গেল। আর বেঁচে থেকে লাভ কি? ইতিবাচক অভিব্যক্তির ব্যক্তিটি খুব সহজেই উঠে দাড়াবে আর পরবর্তী জন খুব তাড়াতাড়ি মানষিক বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এবার আপনি বিচার করুন আপনার কোন অভিব্যক্তি হওয়া উচিত।

আপনি আপনার সমস্যা দূর করতে সবার আগে এই পোষ্টটি পড়ুন : আপনি কি খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছেন? তাহলে এটা আপনার জন্য।

এবার আসি হনুমান চালিশা কিভাবে আপনার এই অবসাদ দূর করতে পারে?

How Hanuman Chalisa helps you to Overcome Mental depression:

উওরে বলা যায় হনুমান চালিশা আপনার জীবন একেবারে বদলে দিতে পারে।

হনুমান চালিশা আপনাকে আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক দুই ভাবেই সাহায্য করতে পারে। এবার হনুমান চালিশার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিশদে জানতে হলে এখানে Click কিভাবে হনুমান চালিশা মন্ত্র বৈজ্ঞানিকভাবে কাজ করে” করুন। খুব সংক্ষেপে বলতে হলে হনুমান চালিশা নিয়মিত পাঠে আপনার মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক নির্গত হয় তার ভারসাম্য রক্ষা করে। আপনার মস্তিষ্ক স্থির হয় অতি চিন্তা অর্থাৎ Over thinking দূর হয়।

এবার আসি এর আধ্যাত্মিক গুণের কথায়। মাথায় রাখবেন এই কলী যুগের একমাত্র জীবিত দেবতা হল হনুমানজী। তিনি ভক্তদের খুব অল্প ডাকেই সাড়া দেন। আপনি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ বা হনুমানজীর আরাধনা করলে পৃথিবীতে এমন কোন সমস্যা নেই যে তা দূর হয় না। কিন্তু আপনাকে কিছু নিয়ম নীতি পালন করতে হবে।

যেমন :

  • আপনাকে সবার আগে মদ্যপান বা অন্য যে কোন বাজে নেশা ছাড়তে হবে। মনে রাখবেন হনুমান আরাধনার প্রধান শর্ত হল নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। আপনার যদি মানষিক অবসাদের জন্য সত্যিই কোন বাজে নেশা ধরে থাকেন তবে খুব তাড়াতাড়ি সেটিকে ছেড়ে দিন। কারণ ঐ বাজে নেশা যে আপনাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেটা আপনিও ভাল করে জানেন।
  • আপনাকে সম্পূর্ণ রুপে হনুমানজীর কাছে নিজকে সমর্পন করতে হবে। অথাৎ আপনি সম্পূর্ণভাবে হনুমানজীর আরাধনায় নিজকে নিয়োজিত করবেন।  মনেপ্রানে বিশ্বাস করবেন যে হনুমানজী আসবেন আপনাকে উদ্ধার করতে। একটা কথা মনে রাখবেন দ্রৌপদী সম্পূর্ণ রুপে নিজকে শ্রীকৃষ্ণের কাছে সমর্পন করলে তবেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীর সাহায্য করতে এসেছিলেন। দ্রৌপদী বিশ্বাস করেছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ তাকে উদ্ধার করতে আসবেন।
  • প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত তিনবার অর্থ বুঝে হনুমান চালিশা পাঠ করেতেই হবে। সকালে, সন্ধ্যায় এবং রাতে শোবার আগে হনুমান চালিশা বিধি মেনে পাঠ করবেন।
  • হনুমান চালিশা পাঠ করবার বিধি পাবেন এখানে : Hanuman Chalisa পাঠের সময় এই ভুল গুলি করছেন নাতো?
  • সমস্ত নিয়ম শুরু করবেন শনি ও মঙ্গলবারে। যেদিন শুরু করবেন সেদিন অবশ্যই একশবার হনুমান চালিশা পাঠ করবেন।
  • অবশ্যই প্রতিদিন হনুমান পূজা করতেই হবে এবং তা রীতি মেনে এবং হনুমানজীর ধ্যান করতে হবে। ধ্যান করবার সময় চিন্তা করবেন আপনার জীবনের সমস্ত সমস্যা আর নেই। আপনার জীবনে সমস্ত কষ্টের সমাধান হয়ে গেছে। আপনার হয়ত প্রথমে এই ধরনের চিন্তা আসবে না। কিন্তু আপনি চেষ্টা করতে থাকুন কিছু দিন পর এই চিন্তা ঠিক আসবে।
  • আপনি সম্ভব হলে হনুমানজী সম্পর্কে সমস্ত গল্প বা তথ্য  পড়ুন। সমস্ত তথ্য এই ব্লগেই পাবেন। www.bengalihanumanchalisa.com
  • হনুমানজী সম্পর্কে সমস্ত মন্ত্র এবং নিয়ম আচার সম্বন্ধে বিশদ ভাবে জানুন সেগুলি কোনটি কোন কাজে পাঠ করা হয়। এর উপকারিতা এবং বিধি গুলি সম্পর্কে বিশদে জানুন।
  • হনুমান চালিশা পাঠ বা হনুমানজীর আরাধনায় যাই করুন না কেন একটু সময় অবশ্যই দেবেন। আজ হনুমান চালিশা পাঠ করে কালই আপনার সব ঠিক হয়ে গেল এ ভাবনা ভুল। আপনার মানষিক অবসাদ যেমন এক দিনে আসে নি তেমনি এক দিনে যাবেও না। একটি ওষুধ খাবার পর যেমন তাকে রক্তের সঙ্গে মিশে কাজ করতে সময় লাগে তেমনি এটাতেও একটুতো সময় লাগবেই। আর এই সব রীতি পালন করবার সময় অর্থাৎ হনুমান চালিশা পাঠ, হনুমানজীর পূজা এগুলো যখন করবেন তখন দিন গুনবেন না যে “20 দিন ধরে করছি বা 25 দিন ধরে করছি “। এতে কিন্তু অবসাদ বাড়বে। 
  • সবশেষে আপনাকে কিন্তু আপনার স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যেতে হবে। আপনার এটি মাথায় ঢ়ুকিয়ে নিন যে আপনার কিছুই হয়নি। আর পাঁচটা রোগের মত এটাও একটি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং সংযত জীবনযাত্রা আপনাকে আবার সারিয়ে তুলবে।
প্রথমে আপনি বিশ্বাস নিয়ে আসুন আপনার মনে যে হনুমানজী আপনাকে উদ্ধার করতে অবশ্যই কোন না কোন রুপে ছুটে আসবেন। হাজারো ভক্ত বৃন্দ হনুমান চালিশা পড়ে অনেক কঠিন কঠিন সমস্যা থেকে উদ্ধার পেয়েছেন। আপনার বিশ্বাস না হলে আপনি YouTube বা Google করে দেখতে পারেন। আর তাও যদি না সম্ভব হয় তো কোন শনিবার বা মঙ্গলবারে কোন হনুমান মন্দিরে গিয়ে কয়েকজন ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। দেখবেন তারা সবাই কোন না কোন সমস্যায় পড়ে হনুমানজীর কাছে এসেছেন। তাদের অনেকেরই সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। যদি সত্যি হনুমানজীর আরাধনায় সমস্যার সমাধান না হত তাহলে বছরের পর বছর এই রীতি চলত না। আমরা সাধারন মানুষ কিন্তু বেশিরভাগই সমস্যায় পড়েই ভগবানের কাছে ছুটে যাই। 

এ মূল্যবান জীবন আপনার। এই জীবনকে কিভাবে কাটাবেন সেটা আপনিই ঠিক করবেন। জীবন যুদ্ধে সাময়িক ভাবে হেরে গিয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়াটা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে আপনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোক গুলির জীবনে কষ্ট বাড়ে। আপনি জন্মানোর সময় আপনার মা কে 57 টি হাড় ভাঙ্গার সমান ব্যাথা সহ্য করতে হয়েছিল। এবার তাদের কথা ভেবে একবারের জন্য গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাড়ান। জীবনে হার জীত দুটোই রয়েছে। মাথায় রাখবেন হনুমানজী আপনার জীবনের পাতে সাময়িক ভাবে খারাপ কিছু দিলে শেষ পাতে কিন্তু দই মিষ্টি বরাদ্দই আছে। হ্যাঁ আপনার জন্যও রয়েছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? একবার হনুমানজীর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেই দেখুন না?  ভাল থাকবেন……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *